ব্রেকিং: খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে বিভক্ত আদেশ ৫৮টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল যে কারণে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি কোকোর স্ত্রীর আবদারেই মিলন বাদ! বিএনপির সঙ্গে নেই মনির খান চিকিৎসার জন্য রাতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন এরশাদ মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের কাছে শেখ হাসিনার খোলা চিঠি মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ভাঙচুর ভিকারুননিসার নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম দ্বৈত আসনে আ.লীগের চূড়ান্ত প্রার্থী যারা শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার মিকা সিং

বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন: কানাডার আদালত

প্রবাস, ব্রেকিং | ১১ ফাল্গুন ১৪২৩ | Thursday, February 23, 2017

full_679969157_1487775770.pngওয়ার্ল্ড নিউজ বিডি ডট কম,নিজস্ব প্রতিনিধি,২২ ফেব্রুয়ারি : ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’- বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছে কানাডার ফেডারেল কোর্ট।

বিএনপির সদস্য হওয়ার কারণে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে দেয়ার বিরুদ্ধে করা জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করতে গিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন কানাডার ফেডারেল আদালত। সে সঙ্গে দলটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে মন্তব্য করেন ফেডারেল আদালতের বিচারক হেনরি এস ব্রাউন।

কানাডা সরকার বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি বলে আবেদনকারীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত জানিয়ে আদালত বলেন, ‘তালিকাভুক্ত করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়’। এটি ঠিক করে কানাডার গভর্নর কাউন্সিল। এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইস্যু জড়িত থাকে। আমি এ যুক্তি গ্রহণ করছি না।

কানাডা তালিকাভুক্ত করেনি বলেই বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে ইমগ্রেশন অফিসার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না- এমন কোনো যুক্তিও এই মামলায় আসেনি।

ফেডারেল কোর্টের বিচারক হেনরি এস ব্রাউন গত ২৫ জানুয়ারি এই রায় দেন। জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি, বিএনপির পরিচালিত লাগাতার হরতাল এবং হরতালকে কেন্দ্র করে পরিচালিত সন্ত্রাসী তৎপরতা সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সম্প্রতি এই রায়ের লিখিত কপি প্রকাশ পেয়েছে।

উল্লেখ্য, মোহাম্মাদ জুয়েল হোসেন গাজী নামে ঢাকার মীরপুরের স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হওয়ার পর তিনি ফেডারেল কোর্টে এই জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদন করেন।

রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল তাকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রথম পর্যায়ের অনুমোদন দেওয়া হলেও ২০১৬ সালের ১৬মে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির সদস্য হওয়ায় তাকে কানাডায় প্রবেশের অনুপোযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে বলা হয়- ‘বিএনপি সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিল, এটি বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ আছে।

এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা কানাডার ক্রিমিনাল কোডের ধারা তুলে ধরে বলেন, ‘বিএনপির ডাকা হরতাল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে’। বিএনপি কর্মীদের হাতে মালামালের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও মৃত্যু এবং আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

আমি লক্ষ্য করেছি, অতীতে কোনো কোনো ঘটনায় বিএনপির নেতৃত্ব নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার নিন্দা করেছে। কিন্তু বিএনপির দাবি দাওয়া সরকারকে মানতে বাধ্য করতে লাগাতার হরতালের কারণে সৃষ্ট সহিংসতা প্রমাণ করে, এটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বাইরে চলে গিয়েছে।

জুডিশিয়াল রিভিউর নিষ্পত্তি করতে গিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বিচারক হেনরি এস ব্রাউন বলেন, কানাডার আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের যে সংজ্ঞা দেয়া আছে তার আলোকে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ওই কর্মকর্তা উপসংহারে পৌঁছেছেন।